আপনার শিশুর ক্রিয়েটিভিটি বাড়াবে যে ৫ ধরণের খেলনা

আপনার শিশুর ক্রিয়েটিভিটি বাড়াবে যে ৫ ধরণের খেলনা

খেলনা পছন্দ করে না এমন শিশু হয়তো পৃথিবীতে একটিও নেই। কিন্তু সব খেলনাই কি ভালো? কিংবা সব খেলনাই কি শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক? আজকের লেখার বিষয় হচ্ছে কোন ধরণের খেলনাগুলো অভিভাবক হিসাবে আপনাদের কেনা উচিত শিশুদের ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর জন্য। 

এরকম নিশ্চয়ই হয়েছে যে আপনি আপনার এক-দুই বছরের শিশুর জন্য খেলনা গাড়ি কিনে এনে দিয়েছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই দেখেন আপনার শিশু গাড়ি বাদ দিয়ে খেলনা গাড়িটি যে প্যাকেটে ছিল সেটা নিয়ে মশগুল।

American Specialty Toy Retailing Association (ASTRA) এর মতে খেলনা হতে হবে এমন যেন শিশু সিদ্ধান্ত নিতে পারে সে খেলনাটা দিয়ে কিভাবে এবং কি খেলবে। ফ্রিটজি ডি ভেরা – বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের একটি প্রি-স্কুল এবং ক্লিনিক চালান। উনি তাই নতুন খেলনা কেনার সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখেন। যেমন –  

১। খেলনাটি কি বয়স উপযোগী?  

২। এটি কি নিরাপদ?

৩। খেলনাটিকে কি ক্রিয়েটিভিটি, আগ্রহ এবং কল্পনাশক্তি বাড়ানোর একটি টুল হিসাবে ব্যবহার করা যাবে?

৪। খেলনাটি দিয়ে কি কোন ইন্টার‍্যাকশন শুরু করা যাবে?

৫। এটি কি কোন কিছু শেখানোর কাজে ব্যবহার করা যাবে?   

 

এই প্রশ্নগুলোর ৩-৪ টার উত্তর যদি ‘না’ হয় তাহলে ঐ খেলনা না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেটি স্রেফ পয়সা খরচ করা ছাড়া আর কিছু হবে না। এমনকি ভুল খেলনা আপনার সন্তানের শারীরিক এবং মানসিক – দুদিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

ডঃ ইভ্লিন গাপুয, সেন্ট লুক মেডিক্যাল সেন্টারের একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বলেন, যে খেলনা হতে হবে খুব সাধারণ। শিশুরা খুব সাধারণ খেলনা থেকেই অনেক আনন্দ নিতে পারে। ডঃ গাপুয এবং ডি ভেরা দুজনেই একমত যে নিচের ৫ ধরণের  খেলনা শিশুদের সৃজনশীলতা, আগ্রহ এবং কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

 

১। Open-Ended Toys

এই ধরণের খেলনাগুলোর মধ্যে আছে সাধারণ ব্লক টাইপ খেলনা (যেমন, লেগোর কিছু সেট), জোড়া লাগানো যায় বা সর্টিং করা যায় এমন খেলনা, পাজল ইত্যাদি। এই খেলনাগুলো এমন যেগুলো দিয়ে শিশুরা অনেকক্ষণ ধরে নিজেদের মত করে অথবা অন্যকে সাথে নিয়ে খেলতে পারে। ২ বছর বয়স থেকেই এই ধরণের খেলনাগুলো দিয়ে শিশুদের মধ্যে অভ্যাসটা তৈরি করে ফেলা জরুরি। এর আগেই যদি কার্টুন বা স্মার্টফোনে শিশু আকৃষ্ট হয়ে যায় তখন আর এই ধরণের খেলনার দিকে মনোযোগ থাকে না।

২। ক্র্যাফটিং করার জিনিসপত্র

ক্র্যাফটিং যে একটি শিশুর ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর ব্যাপারে কত উপকার করে সেটি নানাভাবে বার বার এসেছে। আমরাও আমাদের আগের লেখায় বলেছি ক্র্যাফটিং শিশুর বিকাশে কিভাবে ভূমিকা রাখে। আমরা আমাদের ক্র্যাফট কোর্সগুলো চালানোর সময় দেখি অনেক ৬-৭ বছরের শিশুরাও এখনও কাঁচি দিয়ে কাগজ কাটতে পারে না। অভিভাবকরা শিশুদের হাতে কাঁচি দিতে চান না। এর ফলে তার মোটর স্কিল থেকে শুরু করে ক্রিয়েটিভিটির বারোটা বাজছে। ব্যাপারটি খুব দুঃখজনক।

শিশুর বয়স ৩ হওয়ার পর থেকেই ক্র্যাফটের নানারকম কাজে অংশ নিন তার সাথে। কেবল কাঁচি, রঙিন কাগজ, রঙ পেন্সিল আর আঠা দিয়েই কত মজার ক্র্যাফটের কাজ করা যায়। Learning Toys হিসাবে ক্র্যাফটের বিভিন্ন প্যাকেজ বাইরের দেশে পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তেমন কিছু নেই। 

তাই আপনার ৪-১০ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৩টি চমৎকার প্যাকেজ রেডি করেছি আমরা। এগুলো আমাদের পার্টনার Togumogu.com তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে দিচ্ছে খুব সুলভ মূল্যে। আমাদের কাছে অনেক অভিভাবক জানতে চান এগুলো কোথায় পাওয়া যায়, আমাদের থেকে পাওয়া যাবে কিনা ইত্যাদি। অভিভাবকদের কথা মাথায় রেখেই আমাদের এই ব্যাবস্থা নেয়া। এখন দেশের যেকোনো প্রান্তের যেকোন অভিভাবক অর্ডার করতে পারবেন এবং সেগুলো পৌঁছে দেয়া হবে আপনাদের কাছে। এবং সেটাও ফ্রি ডেলিভারি। 

  

৩। পাওয়া জিনিসঃ

শিশুদের কল্পনাশক্তি অসীম। তাই যেকোনো জিনিসকে তারা খেলার কাজে ব্যাবহার করতে পারে। সেটি চামচ, প্লেট, গাছের ডাল থেকে শুরু করে পানি, বালি, ইটের টুকরা, শুকনো পাতা যেকোনো কিছু হতে পারে। ডি ভেরা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন প্রকৃতিতে পাওয়া যায় যেসব জিনিস যেমন পানি, বালি, পাতা ইত্যাদি কুড়িয়ে পাওয়ার জন্য বা ওগুলো নিয়ে খেলার জন্য শিশুদের ছেড়ে দেয়া উচিত। আমাদের ঢাকা শহরের শিশুরা এই সুযোগটা পায় খুব কম। তাই ছুটির দিনে খালি ফাস্ট ফুডে যেয়ে খাওয়ার চেয়ে আপনার শিশুকে আশেপাশের কোন পার্কে নিয়ে যান। শুকনো ডাল, পাতা, ঘাস, ফুল ইত্যাদির সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। কাপড় একটু ময়লা হবে, হাতে একটু ময়লা লাগবে… লাগতে দিন না।

৪। বোর্ড গেমঃ

নানাধরণের বোর্ড গেমগুলো শিশুর প্রবলেম সল্ভিং স্কিল বাড়ায়। তার চেয়ে বড় কথা এই গেমগুলো খেলতে হয় আরও অন্তত একজনের সাথে। অভিভাবকরা নিজেরা এই খেলায় অংশ নিতে পারেন শিশুর সাথে। স্কুলের বা ডে কেয়ারগুলোর উচিত অবশ্যই এরকম কিছু সেট রেখে দেয়া। প্রবলেম সল্ভিং স্কিল বাড়ার পাশাপাশি এই গেমগুলোর মাধ্যমে শিশুরা নানাভাবে সোশ্যাল ইন্টারএকশনে যায়। এতে করে বন্ধুত্ব, কমুনিকেশন এবং নেগোসিয়েশন করার দক্ষতা বাড়ে শিশুদের।

৫। রোল-প্লে করার খেলনা

রান্নাঘরের সেট, ঘরের সেট, ডাক্তার রোল-প্লে সেট ইত্যাদি খেলনাগুলো শিশুদের রোল-প্লে করার সুযোগ তৈরি করে দেয়, নিজেদের মত একটি জগত তৈরি করতে এবং নিজের কল্পনাশক্তিকে বাড়াতে সাহায্য করে। আমাদের দেশের মেয়ে শিশুরা আগে যেমন পুতুল খেলত, পুতুলের বিয়ে দিত, মিছে-মিছি রান্নাবাটি খেলত। এই ধরণের খেলনাগুলো শিশুর জন্য ভালো। এখন অবশ্য হালের সুপারহিরোদের যুগে শিশুরা সুপারহিরো কস্টিউম, মাস্ক, সুপারহিরো ফিগার এইসব খেলনার প্রতি খুব ঝুঁকে গেছে। এগুলো জিনিস সরাসরি কিনে দেয়ার চেয়ে আপনি আর আপনার শিশু নিজেরা মিলে বানানোর চেষ্টা করে ফেলুন। সাধারণ শক্ত কাগজ কেটেই বানিয়ে ফেলা যায় ব্যাটম্যান, স্পাইডারম্যানের মাস্ক। এরপর তাকেই দায়িত্ব দিন সুপারহিরোদের বিভিন্ন গেজেটগুলো বানিয়ে ফেলতে। বানাতে যা যা লাগবে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তারপর সময়মত কিনে ফেলুন। আপনার খরচও বাঁচবে আর আপনার শিশু শিখবেও অনেক কিছু।

Share with friends
  •  
  •  
  •  
  •